কিয়ামতের আগে যে ৭টি লক্ষণ দেখে প্রত্যেক মুসলিমের সতর্ক হওয়া উচিত!
নিজস্ব প্রতিবেদকইসলামের দৃষ্টিতে এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়। একদিন মহান আল্লাহর নির্দেশে কিয়ামত সংঘটিত হবে। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে কিয়ামতের আগে অনেক ছোট ও বড় আলামতের কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব আলামত আমাদের জন্য সতর্কবার্তা, যাতে আমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসি এবং সৎ আমল বৃদ্ধি করি।
১. সময় খুব দ্রুত চলে যাবে
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এমন এক সময় আসবে যখন মানুষের কাছে মনে হবে সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। বছর মাসের মতো, মাস সপ্তাহের মতো এবং সপ্তাহ দিনের মতো মনে হবে।
২. অশ্লীলতা ও পাপের প্রসার
সমাজে লজ্জাহীনতা, ব্যভিচার, সুদ, মিথ্যা, প্রতারণা এবং অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। মানুষ পাপকে স্বাভাবিক মনে করবে।
৩. আমানতের খিয়ানত বৃদ্ধি
যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে অযোগ্য মানুষের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী মনে করা হবে।
৪. মানুষের মধ্যে হত্যা বেড়ে যাবে
কারণ ছাড়াই মানুষ মানুষকে হত্যা করবে। হাদিসে এই সময়কে "হারজ" বলা হয়েছে, অর্থাৎ ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের যুগ।
৫. দাজ্জালের আবির্ভাব
দাজ্জাল কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত। সে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে এবং নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করবে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ঈমানকে দৃঢ় রাখা এবং সূরা আল-কাহফ পাঠের অভ্যাস করা।
৬. ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন
আল্লাহর হুকুমে নবী ঈসা (আ.) পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তিনি দাজ্জালকে পরাজিত করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।
৭. সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে
এটি কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত। এই ঘটনার পর তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দেরি না করে এখনই আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত।
আমাদের করণীয়
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করা।
কুরআন তিলাওয়াত ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করা।
বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা।
সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
অন্যায় ও পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
মানুষের হক আদায় করা এবং সৎকাজে প্রতিযোগিতা করা।
কিয়ামতের সঠিক সময় একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে এর আলামতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই আজ থেকেই ঈমানকে শক্তিশালী করা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।
বিঃদ্রঃ এই লেখাটি কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত বিষয়গুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা। ইসলামী বিষয় জানার ক্ষেত্রে সবসময় নির্ভরযোগ্য আলেম ও প্রামাণ্য গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন